মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

শ্রীবরদীতে কবরস্থান ও জমি না থাকায় বৃদ্ধ কৃষককে বসতঘরের বারান্দায় দাফন, আজ গণকবরস্থানে নেওয়ার আশ্বাস

শেরপুরের শালমারা গ্রামে সামাজিক কবরস্থান না থাকায় ভিটেবাড়ি ছাড়া জমিহীন আবদুল করিমকে ঘরেই মাটি দিতে হয়েছে; প্রশাসন পাশের কবরস্থানে পুনরায় দাফনের কথা জানিয়েছে।

শেরপুরের শ্রীবরদীতে নিজস্ব জমি বা সামাজিক কবরস্থান না থাকায় বসতঘরের বারান্দায় দাফন করা হয়েছে আবদুল করিম (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে। সোমবার উপজেলার শালমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তবে মঙ্গলবার তাঁকে পাশের এলাকার গণকবরস্থানে দাফনের কথা রয়েছে।

আবদুল করিম শালমারা গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় কৃষক ছিলেন। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, পরিবারের বসতভিটা ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই। অসুস্থতার কারণে সোমবার আবদুল করিমের মৃত্যু হয়।

উপজেলা প্রশাসন, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শালমারা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান থাকলেও সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো সামাজিক কবরস্থান নেই। ফলে যেসব পরিবারের নিজস্ব কবরস্থান নেই, স্বজনের মৃত্যু হলে তাদের দাফন নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। কেউ বাড়ির আঙিনায়, কেউ বসতবাড়ির সামনে বা পাশে মরদেহ দাফন করেন।

আবদুল করিমের মেয়ে রিক্তা পারভীন বলেন, বাড়িভিটা ছাড়া তাঁদের আর কোনো জমিজমা নেই, পাড়ায় কোনো গোরস্তানও নেই; তাই উপায় না থাকায় ঘরেই বাবাকে মাটি দিতে হয়েছে। এই পাড়ার অসহায় ও গরিব মানুষের জন্য অন্তত একটি গোরস্তান দরকার বলে তিনি জানান।

গ্রামটিতে একটি গণকবরস্থান করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে বলে জানান গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ মিয়া। তাঁর ভাষ্য, কেউ এগিয়ে আসেননি; এ কারণেই আবদুল করিমকে ঘরে দাফন করতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জার।

তাতিহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রউফ জানান, মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পাশের ষাইটকাকড়া গণকবরস্থানে আবদুল করিমকে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। শ্রীবরদীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদও একই কথা বলেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ওয়ার্ডের সামাজিক কবরস্থানে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, খবরটি জানার পরই ইউএনওকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।